আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান বিশ্বব্যাপী খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। বলেছেন, খাদ্যসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে লাখ লাখ মানুষ অনাহারের মুখে পড়বে এবং পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বব্যাপী খাদ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বহু দেশের সরকার অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে রয়েছে। হাইতিতে এ সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। খাদ্য নিয়ে দাঙ্গার ঘটনাও ঘটেছে। ভয়াবহ ওই দাঙ্গা মোকাবিলায় ব্যর্থতার জন্য হাইতির প্রধানমন্ত্রী জ্যাকস এডোয়ার্ড অ্যালেক্সিসকে বরখাস্ত করেছে সে দেশের সিনেট।
আইএমএফ প্রধান দোমিনিক স্ট্রর্ডস কাহন বলেছেন, খাদ্যমূল্যের অব্যাহত বৃদ্ধির কারণে সামাজিক অসন্তোষ সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। খাদ্য নিয়ে হাইতি ছাড়াও দাঙ্গা হয়েছে ফিলিপাইনস ও মিসরে এবং এতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। দাঙ্গায় হাইতিতেই ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক সভায় আইএমএফ, খাদ্য মূল্য এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সঙ্কট নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
খাদ্যমূল্যের অব্যাহত বৃদ্ধির কঠোর পরিণতির ভয়াবহতা সম্পর্কে আইএমএফ প্রধান ২৪টি দেশের অর্থমন্ত্রীদের নিয়ে আইএমএফ-এর স্টিয়ারিং কমিটির সভায় স্মরণ করিয়ে দেন। ওই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল বিশ্বব্যাপী খাদ্যমূল্যের বৃদ্ধি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাজার হাজার লোক অনাহারের মুখে। অপুষ্টির শিকার হবে শিশুরাও। এ সঙ্কটের কারণে বাণিজ্যেও ভারসাম্যহীনতা দেখা দেবে। স্বাভাবিকভাবেই এটি উন্নত দেশের ওপরও প্রভাব পড়বে। কাজেই এটা কেবল মানবিক প্রশ্নই নয়। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে খাদ্যমূল্য গত কয়েক মাস ধরে বেড়েই চলছে।
ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের এই দরিদ্র দেশটিতে খাদ্য সঙ্কট নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট রেনে প্রেভাল প্রতি বস্তাপ্রতি চালের দাম ৫১ ডলার থেকে কমিয়ে ৪৩ ডলার করার পরিকল্পনা পেশ করেছিলেন। এ সত্ত্বেও সিনেট তার সমর্থনপুষ্ট প্রধানমন্ত্রীকে সরিয়ে দিলো। প্রেসিডেন্ট প্রেভাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে চালের দাম কমানোর পরিকল্পনাটি জানান। ঠিক হয় প্রতি বস্তা চালের ভর্তুকির তিন ডলার দেবেন ব্যবসায়ীরা। বাকিটা দেবে আন্তর্জাতিক দাতারা।